হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনায় ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা

কুমিল্লায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। রোববার (১৫ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক তাপস বকশী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ মনজুর মোরশেদ।
তিনি বলেন, ঐক্য পরিষদের মিছিলে হামলার ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত নূর হোসেন ওরফে স্বপন (৪০) ও শিপন (৩৫) তারা যুবলীগের কর্মী এবং দুজনেই এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সমর্থক বলে জানা গেছে।
ওসি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরকে মদমুক্ত পূজা উদযাপন করতে বলে হিন্দু ধর্মকে কটুক্তি করেন কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।
এ সময় পূজা চলাকালে মদ খেয়ে মণ্ডপে নাচানাচি না করে মাদকমুক্ত পূজা আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে এমপি বাহার বলেন, ‘পূজা চলাকালে মদ খেয়ে নাচানাচি বন্ধ করতে হবে। সারারাত নাচানাচি করে সকালে ঘুমিয়ে থাকলে চলবে না। আসুন কুমিল্লা থেকেই শুরু হোক মাদকমুক্ত পূজা আয়োজন। মণ্ডপে লিখে দেবেন ‘মাদকমুক্ত পূজা’। মদমুক্ত পূজা করলে পূজার সংখ্যা কমবে, কুমিল্লায় এত মণ্ডপ হবে না।’
এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের এই হিন্দু ধর্মকে কটুক্তি করা বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে যুব ঐক্য পরিষদ, ছাত্র ঐক্য পরিষদ এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। নগরীর কান্দিরপাড়, নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকায় মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আদিত্য দাস, সুনীল দাস ও তন্ময় দাস নামে যুব ঐক্য পরিষদ ও ছাত্র ঐক্য পরিষদের তিন নেতা আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সমর্থকেরা এ হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে।
ইউকে/এনসিআর
আপনার মতামত লিখুন