খুঁজুন
রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪, ৬ শ্রাবণ, ১৪৩১

কৃষি বাজেট : কার জন্য এবং কেন?

অমিত রঞ্জন দে প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০২৪, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
কৃষি বাজেট : কার জন্য এবং কেন?

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে দুনিয়াব্যাপী মানুষ উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে সেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরও বেশি। কারণ এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে  বাস করে ১১১৬ জন মানুষ। যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। এই ব্যাপক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি তাই সর্বাগ্রে বিবেচ্য। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, তা ক্রমান্বয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। মুখে চলছে বাগাড়ম্বরতা।

কখনো কখনো বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধৃত করে বলা হচ্ছে, ‘খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। আমাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য আমাদেরই উৎপাদন করতে হবে, কৃষককে বাঁচাতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে, তা না হলে বাংলাকে বাঁচানো যাবে না।’ এই বক্তব্যের সাথে বোধহয় কারোর কোনো মতভেদ নেই। বরং এইটাই আপামর জনসাধারণের ঐকান্তিক চাওয়া।

প্রশ্ন হলো, এই স্বয়ংসম্পূর্ণতা বা উৎপাদন বৃদ্ধি কতদিনের জন্য, কার জন্য? এই স্বয়ংসম্পূর্ণতা কি সাময়িক সময়ের জন্য, নাকি এর সুদূরপ্রসারী কোনো লক্ষ্য আছে? এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করাটাও আমাদের দায়-দায়িত্বের মধ্যে পড়বে কিনা?

প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বাংলাকে বাঁচানো, কৃষি বা কৃষককে বাঁচানোর উদ্যোগ-আয়োজনগুলো কোথায়? প্রস্তাবিত বাজেট কি কৃষি বা কৃষকের স্বার্থ রক্ষার কথা বলছে? নাকি একদল মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর উদ্দেশ্য চরিতার্থে কাজ করছে?

পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, কৃষিকেন্দ্রিক আমাদের চিন্তা-ভাবনা, উদ্যোগ-আয়োজনসমূহ একেবারেই তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর মতো। তা কোনো গবেষণা বা কৃষি ও কৃষকের টিকে থাকা বা স্থায়িত্ব বিবেচনায় গৃহীত হচ্ছে না। জাতীয় বাজেট তা আরও সুস্পষ্ট করে তোলে। কৃষিতে এখনো ৪০.৬ শতাংশ মানুষের শ্রম নিযুক্ত সেইখানে বাজেটের আকার কত?

কৃষিকেন্দ্রিক আমাদের চিন্তা-ভাবনা, উদ্যোগ-আয়োজনসমূহ একেবারেই তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর মতো। তা কোনো গবেষণা বা কৃষি ও কৃষকের টিকে থাকা বা স্থায়িত্ব বিবেচনায় গৃহীত হচ্ছে না।

কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমি ও পানি সম্পদ এই পাঁচটি মন্ত্রণালয় মিলে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট বাজেটের মাত্র ৫.৯০ শতাংশ। অথচ এই পাঁচটি খাতই বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা তথা টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদের মধ্যে সঙ্গতি স্থাপনই প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষা করবে। কিন্তু যে উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি এবং উৎসাহিত করছি তা কোনোভাবেই আমাদের কৃষিকে টিকিয়ে রাখার মৌলিক উপাদান মাটি, পানি ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না।

আমরা উৎপাদন বাড়ানোর নামে ক্রমাগত ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারে ধান চাষ করছি, ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে। মৎস্য সম্পদের জোগান নিশ্চিত করার নামে মিষ্টি পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি করছি। যা একদিকে ভূগর্ভস্থ পানি নিচে নেমে যাওয়ায় খরা পরিস্থিতি তৈরি করছে, অন্যদিকে লবণের খরা দেখা দিচ্ছে। পানির প্রাপ্যতা কমছে, লবণাক্ততা বাড়ছে, ব্যবহার উপযোগী পানি দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ছে। মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। মরুভূমির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেটে সেচের জন্য বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রেয়াত রেখেছেন। কিন্তু তা থেকে কে লাভবান হবে? কৃষক না সেচযন্ত্রের মালিক? কেননা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেচযন্ত্রের মালিকানা কৃষকের হাতে থাকে না। এর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা দুটোই প্রভাবশালীদের হাতে। ফলে কৃষক টাকা দিয়েও পানি পায় না, কৃষক প্ররোচিত হয় আত্মহত্যায়।

দ্বিতীয়ত আমরা দেখছি ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে আমরা ক্রমান্বয়ে মরুময় পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছি। তাহলে, ভূ-উপরিস্থ যেসব পানির আধার রয়েছে পুকুর, খাল, বিল, নদী তা রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা কই, বাজেট কই?

বাজেট বরাদ্দের সময় এই বিষয়সমূহ চিন্তায় থাকছে না, চিন্তায় থাকছে না কৃষকের স্বার্থ। সেইখানে কৃষকের স্বার্থের চেয়ে কোম্পানি বা সম্পদের মালিকের স্বার্থ অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। কৃষক যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে সার-কীটনাশক পায় তার জন্য ভর্তুকি রাখা হয়েছে। যার পুরোটাই রাসায়নিক সার ও কীটনাশক আমদানিতে ব্যবহৃত হবে। ফলে সার-কীটনাশকে রাখা ভর্তুকির পুরোটাই চলে যাবে কোম্পানি বা ব্যবসায়ীর পকেটে।

অথচ কয়েক বছরে কেঁচো সার আমাদের কৃষিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলেছে। এছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে কৃষকের নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত আরও বিভিন্ন ধরনের সার, বালাইনাশক রয়েছে। তার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে কোনো প্রণোদনা নেই, নেই গবেষণা।

কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য বিশেষ করে ধান, আলু, পেঁয়াজ ওঠার সাথে সাথে বিক্রি করতে বাধ্য হন। কারণ তার উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলনের মাত্র ১২-২২ শতাংশ সংরক্ষণ করার সামর্থ্য আমাদের আছে। সুতরাং রাখার জায়গার অভাবে ফসল মাড়াইয়ের সাথে সাথে তা বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এই সুযোগে মিল মালিক কৃষকের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে ধান কিনে নেয় এবং লাভও চলে যায় তার পকেটে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, কুষ্টিয়া, নওগাঁ, বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চলের ৫০টির মতো বড় চালকল প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মূলত এরাই বাজারের নিয়ন্তা। ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদেরই ঋণ দিয়ে থাকে।

এর বিপরীতে কৃষকের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়িয়ে জেলা বিবেচনায় ধান, পেঁয়াজ, আলুর মতো অর্থকরী ফসল সুরক্ষায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ, কৃষিগোলা স্থাপন বা ক্ষুদ্র, মাঝারি চাতাল মালিক, কোল্ডস্টোরেজের মালিক বা মিল মালিকদের প্রণোদনা দিয়ে সেইখানে কৃষকের ফসল সুরক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার। কিন্তু সেইখানে নজর নেই, নেই বাজেট প্রক্ষেপণ।

ফলে হাতেগোনা ওই ৫০টির মতো প্রতিষ্ঠানের লুটপাটে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না, কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত মূল্য থেকে। সেইখানে লাভজনক মূল্য তো অনেক দূরে। তাহলে কীভাবে সম্ভব বাংলার কৃষি এবং কৃষককে নিজের পায়ে দাঁড় করানো?

এখনো নদী-খাল, বিলসহ জলাশয়গুলোর দখল-দূষণ অব্যাহত রয়েছে। তার সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণের নাম নেই। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে আমাদের কৃষি। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উপকূলবর্তী ২০ জেলার ৬২টি উপজেলার ৪১৯টি ইউনিয়ন। প্রায় ৯৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বাজেট বরাদ্দের সময় এই বিষয়সমূহ চিন্তায় থাকছে না, চিন্তায় থাকছে না কৃষকের স্বার্থ। সেইখানে কৃষকের স্বার্থের চেয়ে কোম্পানি বা সম্পদের মালিকের স্বার্থ অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।

বলা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে প্রায় ২১৭ কোটি ২৯ লাখ টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮ হাজার ২০৯ হেক্টর ফসলি জমির ফসল।

সম্প্রতি ভারতের মেঘালয়, চেরাপুঞ্জের বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে সিলেট-সুনামগঞ্জ এলাকা। পানি বের হতে পারছে না। কৃষক এই বছর বন্যার আগে ফসল ঘরে তুললেও ঘরের ভেতর পানি ঢুকে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, জুলাইয়ের শুরুতে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা হতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষক যে বারবার ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে তা থেকে রক্ষায় বাজেটে কী রাখা হলো?

কী রাখা হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের করাল থাবা থেকে বারংবার রক্ষাকারী প্রাকৃতিক দুর্গ সুন্দরবনের জন্য। সুন্দরবন বারবার বুক দিয়ে আমাদের জানমাল এবং কৃষিকে আগলে রাখছে। সম্প্রতি সেইখানে অগিকাণ্ড এবং ঘূর্ণিঝড় রিমালে যে ক্ষতি হয়েছে তা পোষাতে এবং তার সুরক্ষায় পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাজেটে কি বরাদ্দ রাখা হলো?

এই সবকিছুর মধ্যে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তাহলো বাজেট তাহলে কার জন্যে, কীসের জন্যে? এখানে আবহাওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থানীয় বীজ, কৃষকের জ্ঞান, ফসলের ন্যায্য মূল্য, ফসল সংরক্ষণ, বৈরি আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়ানোর বিষয়গুলো কোথায়?

তা নিশ্চিতকরণে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে না পারলে বাজেট নামক টাকা পয়সার হিসাব-নিকেশ করে কোনো লাভ হবে কি? কারণ বাজেটের সাথে যুক্ত থাকে দৃষ্টিভঙ্গি, যুক্ত থাকে স্থায়ী হওয়া তথা প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

 

অমিত রঞ্জন দে ।। সংস্কৃতিকর্মী ও সহ-সাধারণ সম্পাদক, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ২:৫০ অপরাহ্ণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩-এর আর্টিকেল ২৪(এল) ধারার ক্ষমতাবলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বুধবার (১৭ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ ১৭ জুলাই, ২০২৪ বুধবার সকাল ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সংঘর্ষে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের আহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়:

dhakapost

১. উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩-এর আর্টিকেল ২৪(এল) ধারার ক্ষমতাবলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

২. আজ ১৭ জুলাই ২০২৪ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব আবাসিক হল/হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের হল/হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। পরবর্তীতে হল খোলার পর মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ করে শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানো হবে। বহিরাগত কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও অবস্থান না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো।

৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

৪। বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সমাধানের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হলো।

এর আগে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সারা দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শ্রেণি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাত ১১টায় দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশনা দেয় ইউজিসি। কমিশনের সচিব ড. ফেরদৌস জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য কলেজসহ সব কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়ে নিরাপদ আবাসস্থলে অবস্থানের নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

এছাড়া, রাত সাড়ে ১০টা ২০ মিনিটে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিষয়টি বিবেচনায় অনির্দিষ্টকালের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এতে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজ ও প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে।

বীরগঞ্জ  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
বীরগঞ্জ  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য  ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

শনিবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১ টায় উপজেলা কমপ্লেক্স পৌঁছে জরুরি বিভাগ, কমিউনিটি ভিশন সেন্টার, বিভিন্ন কনসালট্যান্টের রোগীদের সেবা প্রদানের দপ্তর  পরিদর্শন করেন, ডেলিভারির লেভার কক্ষ পরিদর্শন করেন ।

এইখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে কথা বলেন। তাছাড়া কমপ্লেক্সের বেডে ভর্তিকৃত চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখেন এবং চিকিৎসা সেবা বিষয়ে রোগীদের সাথে কথা বলেন। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

তিনি চিকিৎসকের নানাবিধ সমস্যার বিষয়ে তাঁর প্রত্যক্ষ ধারনা রয়েছে বলে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন তাঁর প্রচেস্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার বিষয়ে মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।  এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নরমাল ডেলিভারির জন্য কমপ্লেক্সের দায়িত্ব প্রাপ্ত চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, স্বাস্থ্য সেবার উন্নতির জন্য আন্তরিকভাবে চেস্টা করবেন বলে জানান।

এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাকারিয়া জাকা,  রংপুর বিভাগীয় সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মোস্তফা জামান চৌধুরী, দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ এইচ এম বোরহান-উল-ইসলাম সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে এলাহী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরিয়াস সাঈদ সরকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ ডা: মোহাম্মদ মহসিন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আফরোজা সুলতানা লুনা এবং কনসালটেন্টবৃন্দ সহ ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ সহকারী-২০২৪ হিসেবে নির্বাচিত হলেন মরিয়ম বেগম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ সহকারী-২০২৪ হিসেবে নির্বাচিত হলেন মরিয়ম বেগম

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ৬ নং নিজপাড়া ইউনিয়নের ৩ এর (ক) ইউনিটে পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মোছা: মরিয়ম বেগম

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ সহকারী-২০২৪ হিসেবে নির্বাচিত হলেন মরিয়ম বেগম ২০২৩-২০২৪ সালে পরিবার পরিকল্পনা সেবা, গর্ভবতী মা ও শিশু সেবা, কিশোর কিশোরীর প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা, প্রসবোত্তর সেবা ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ অবদান রাখায় মোছা: মরিয়ম বেগম অষ্টম বারের মত বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ সহকারী (F.W.A) নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি ইতিপূর্বে জাতীয় পর্যায়ে দুইবার ও বিভাগীয় পর্যায়ে ছয়বার শ্রেষ্ঠ কর্মী-পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সম্মাননা হিসেবে ২০১৭ সালে চীন দেশ ভ্রমণ করেন ।

বৃহস্পতিবার (১১জুলাই, ২০২৪) সকাল ১০ঃ৩০ মিনিটে রংপুর সিভিল সার্জন মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৪ উপলক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ সহকারী নির্বাচিত হওয়ায় তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র প্রদান করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জনাব মো. জাকির হোসেন, রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. এ.বি.এম আবু হানিফ, রংপুর জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ মোবাশ্বের হাসান, রংপুর সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা জামান চৌধুরী, রংপুর উপ-পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা ডা. শেখ মোঃ সাইদুল ইসলাম ও সভাপতি- পরিবার পরিকল্পনা-রংপুর জনাব মোঃ এনামুল হক। এ বিষয়ে মোছা : মরিয়ম বেগম বলেন, এ সাফল্যের অংশীদার আমার মেডিকেল অফিসার (MCHFP)ডা. মো :নাহিদুজ্জামান  ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জনাম মো: ওবায়দুর রহমান, (বীরগঞ্জ)

আমার এই শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কারটি সকল সহকর্মী ও ইউনিয়নের জনসাধারণের। ইনশাল্লাহ এভাবেই আমি আমার অবদান পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে দিয়ে যাব।

উত্তরের কন্ঠ /এ,এস

"> ">
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা বীরগঞ্জ  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ সহকারী-২০২৪ হিসেবে নির্বাচিত হলেন মরিয়ম বেগম বীরগঞ্জে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য থাকায় বিপাকে জমি ক্রেতা ও গ্রহিতা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার নরসিংদীতে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত ৫ জনকে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান কোমর দুলিয়ে ঝড় তুললেন পারসা ইভানা যারা অবৈধ অনুপ্রবেশ করেন তারাই বিএসএফের হাতে মারা পড়ছেন আটোয়ারীতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল নানি-নাতনির জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেন লেগ স্পিনার রিশাদ কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা হাজীগঞ্জে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার আবেদ আলীর কাছে চাকরি প্রার্থীদের নিয়ে যেতেন প্রিয়নাথ আবেদ আলীসহ ৪ আসামির জামিন নামঞ্জুর গুজরাটে ১০ পদের জন্য ইন্টারভিউ দিতে গেলেন দুই হাজার প্রার্থী বর্ষায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে তুলসি পাতা মালয়েশিয়ায় ১২ বাংলাদেশি আটক আমদানি এলসি সামান্য বাড়লেও কমেছে নিষ্পত্তি দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা হরিজন সম্প্রদায়ের কুবি উপাচার্যকে দেখেই ক্ষেপে গেলেন শিক্ষার্থীরা, জুতা নিক্ষেপ গাজীপুরে কাঁঠাল পাড়া নিয়ে মেয়েকে গলা কেটে হত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুর খনন করতে গিয়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হঠাৎ দুই ভাইয়ের বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর হৃতিকের ‘ওয়ার ২’ ছবিতে থাকছে বড় চমক চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে প্রাণ গেল তিনজনের বগুড়ায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪ বীরগঞ্জে ডাকবাংলো ও জেলা পরিষদের জমি ডাক্তার খানা মাঠে মার্কেট নির্মাণ বিষয়ক আলোচনা সভা বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক নির্বাচিত হলেন মো: শাহীনুর ইসলাম কাহারোলে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুভ উদ্বোধন দুই দিনের সফরে উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী