খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১

উপ-সম্পাদকীয়

দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে নতুন দার উন্মোচন

ইয়াহিয়া নয়ন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৩, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে নতুন দার উন্মোচন

পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা থেকে যশোর-খুলনা ও বেনাপোল রুটে প্রাথমিকভাবে ৮ জোড়া ট্রেন চলবে। এসব ট্রেনের প্রতিদিন যাত্রী ধারণ ক্ষমতা হবে ১৪ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া তিন জোড়া ওয়াগন ও কন্টেইনার চালানো হবে। এর মাধ্যমে ২৬৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ রয়েছে আগামী বছর জুন পর্যন্ত। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে। বাণিজ্যিকভাবে এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর ঢাকা-যশোর-বেনাপোল এবং ঢাকা-খুলনা-মোংলা পথে প্রাথমিকভাবে ৮ জোড়া যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করা হবে। এই পথে দিনে ১৪ হাজার ৫০০ জন যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে।

এ পথে যাত্রী পরিবহন করেই প্রতি বছর ২৬৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এই পথে পণ্যবাহী ওয়াগন এবং কন্টেইনার মিলে তিন জোড়া ট্রেন চালানো হবে। মালামাল পরিবহন করে প্রতি বছর প্রায় ১০৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে। কেবল এ অঞ্চলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে না বরং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্রমবর্ধমান রাজস্ব আয়ের চিত্র তুলে ধরেন রেলপথ সচিব। তিনি বলেন, ২০২০-২১ সালে যেখানে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় হয় ১১৬৬ কোটি টাকা, সেখানে ২১-২২ সালে ১৪৬৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৭৮৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করছে। রেলওয়ে ক্রমান্বয়ে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।

রেলপথ সচিব বলেন, ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলে সক্ষম এই রেলপথে ঢাকা থেকে যশোরের দূরত্ব হ্রাস পাবে ১৮৪ কিলোমিটার এবং যাত্রায় সময় লাগবে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন ঘণ্টা। খুলনার দ্রুত হ্রাস পাবে ২১২ কিলোমিটার ও সময় লাগবে সর্বোচ্চ পৌনে চার ঘণ্টা। অথচ বর্তমানে ঢাকা থেকে খুলনা যেতে সময় লাগছে ৯-১০ ঘণ্টা। সুতরাং ঢাকা থেকে দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের জন্য যোগাযোগের নতুন দার উন্মোচন হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে।

বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা মানেই নতুন কিছু, মানুষের মনের কাছাকাছি নতুন কিছু একটা করা। তেমনই পদ্মাসেতুর ওপর রেল চলাচলের উদ্বোধনের সময় তিনি সহযাত্রী করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধার পাশাপাশি রিকশাচালক, কৃষক, মাঝি, বাসচালক, সবজি বিক্রেতা, পাটকল শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৫০ জন যাত্রীকে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সহযাত্রীদের মধ্যে ছিলেন চারজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, চারজন প্রাথমিকের শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দুইজন প্রতিনিধি, একজন করে প্রাথমিক শিক্ষক, মাদরাসা শিক্ষক, সনাতন ধর্মাবলম্বী, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী, একজন করে রিকশাচালক, নারী কৃষক, ফেরিচালক, মাঝি, মেট্রোরেল কন্ট্রোলার, টিটিই, ট্রেনচালক, স্টেশন মাস্টার, ওয়েম্যান, বাসচালক, হকার, সবজি বিক্রেতা এবং পাটকল শ্রমিক।

এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা পেশাজীবীদের প্রতিনিধিরাও সঙ্গে ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন জেলা আনসার ও ভিডিপির একজন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, স্কাউট, বিএনসিসি, র‌্যাব, রেল পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আরএনবির একজন করে প্রতিনিধি।

উত্তাল পদ্মার ওপর রেলযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাত্রী হতে পেরে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধুকন্যার সঙ্গে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার আনন্দ ছিল তাদের চোখে-মুখে। তারা বলছিলেন, সবাইকে সমানভাবে দেখার যে মহত্ব প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন সেটা অনবদ্য। সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করায় ও মানুষকে কাছে টেনে নেওয়ার এক অনন্য ক্ষমতা আছে প্রধানমন্ত্রীর, সেটাই তিনি বারবার দেখিয়ে চলেছেন।

পদ্মার ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ চালুর ১৫ মাসের ব্যবধানে চালু হলো ট্রেন চলাচল। পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে আয়োজিত সুধী সমাবেশে উপস্থিত হয়ে রেল সংযোগ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের মানুষ প্রথমবারের মতো রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে।

১ নভেম্বর থেকে ঢাকা-খুলনা পর্যন্ত চলাচলকারী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে যশোরের বেনাপোল পর্যন্ত চলাচলকারী বেনাপোল এক্সপ্রেসের রুট পাল্টে চলবে পদ্মা সেতু হয়ে। পাশাপাশি রাজশাহী থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পর্যন্ত চলাচলকারী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটির যাত্রাপথ বাড়বে। সেদিন থেকে এই ট্রেনটি চলবে রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত। এই রুট তিনটি চালুর পর মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও নড়াইল জেলা রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এছাড়া ভাঙ্গা-পাচুরিয়া- রাজবাড়ী সেকশনও পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হবে।

যোগাযোগে পিছিয়ে পড়া দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার সাধারণ মানুষ ভোগান্তিবিহীন আর স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে। এসব অঞ্চলে উৎপাদিত চিংড়ি, কাঁচামাল, সবজিসহ অন্যান্য পণ্য সহজে পরিবহনযোগে পাঠাচ্ছে রাজধানীর বুকে। এতে কৃষক লাভবানের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হচ্ছে। নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য তৈরি হওয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ছে। পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথ চালু হবে। তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত প্রায় ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণ করেছে। বলা হয়েছে, এ পথের বাকি অংশ আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে চালু করা হবে। ফলে পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ জনপদে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ে এক অনন্য যুগে প্রবেশ করবে। কিছুদিন আগে রেলওয়ের উন্নয়ন খাতে অগ্রগতির জন্য যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চেয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার। যা রেলপথের সার্বিক অগ্রগতিতে আরো সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে খুলনা থেকে ঢাকায় ট্রেন লাইনের দূরত্ব ৪৪৯ কিলোমিটার। কিন্তু পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা-খুলনার দূরত্ব কমবে ২১২ কিলোমিটার। আর ঢাকা-যশোরের দূরত্ব কমবে ১৮৪ কিলোমিটার। ফলে একদিকে যেমন যাত্রীদের সময় বাঁচবে অন্যদিকে জ্বালানিও সাশ্রয়ী হবে রেলওয়ের। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত এই রেলপথে ২০টি রেলস্টেশন থাকবে।

পদ্মা সেতুর সড়কপথ চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন যাত্রবাহী ট্রেন লাইন চালুর পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক (মালবাহী) ট্রেন চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য স্বল্প খরচে কৃষকরা ঢাকায় তুলতে পারবে। যা এ অঞ্চলের সার্বিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পটি ‘পদ্মা রেল সংযোগ’ প্রকল্প নামে পরিচিত।

এ প্রকল্পের আওতায় ১০০টি আধুনিক ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ কেনা হয়েছে। যাতে রেলপথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি যাত্রীরা ভোগান্তিবিহীন দ্রুত সময়ে যাতায়াত করতে পারে। তবে প্রতি বছর রেল খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। নতুন নতুন পথ তৈরি হচ্ছে; সংযুক্ত হচ্ছে আধুনিক বিলাসবহুল কোচ। কিন্তু ভোগান্তি আর যাত্রীদের কাঙ্খিত সেবার মান বাড়ছে না। আয়ের থেকে ব্যয় ক্রমাগত হারে বাড়ছে। বছরের পর বছর রেল লোকসান দিয়ে চলছে।

রেল মন্ত্রণালয় কিংবা রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রী আর মালের ভাড়া কম থাকায় লোকসান হচ্ছে বলে এড়িয়ে গেলেও এর পেছনে রয়েছে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অসৎ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি আর রেল পুলিশের অবৈধ কার্যক্রম। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন। নতুন এই প্রকল্পে যাতে দুর্নীতি না হয় এবং লাভবান হওয়া যায় তার জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে বর্তমানের এ অবস্থা থেকে কোনোভাবেই রেল খাতে উন্নতি সম্ভব নয়। পাশাপাশি পদ্মা রেল সংযোগ এই প্রকল্পে যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ট্রেন চালু করার দিকেও কর্তৃপক্ষ সুনজর দেবে- এমনটাই প্রত্যাশা রইল। সরকার আন্তরিক হলে দেশ আরো উন্নতির দিকে যাবে, গণমানুষের এই বিশ্বাস এখন দৃঢ় হয়েছে।

 

লেখক : সাংবাদিক।

বীরগঞ্জে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪, ১১:০১ অপরাহ্ণ
বীরগঞ্জে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের আবাসন কর্মসূচি আশ্রয়ণ-২ পরিকল্পনার আওতায় মঙ্গলবার সারা দেশে গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে আরও ১৮ হাজার ৫৬৬টি বাড়ি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সুবিধাভোগীদের কাছে জমির মালিকানা দলিলসহ বাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

“আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ৫ম পর্যায়ের (২য় ধাপ) নির্ধারিত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ এবং আশ্রয়ণের জরাজীর্ণ ব্যারাকের বসবাসরত পরিবারকে গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে এলাহী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবু হুসাইন বিপু।  এসময় উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়শা আক্তার বৃষ্টি, জেলা পরিষদের সদস্য রোকনুজ্জামান বিপ্লব, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজ কুমার বিশ্বাস,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ মহসীন,  উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হিমেল চন্দ্র রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ছানাউল্লাহ, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ ওসমান গনিসহ ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা, রাজনৈতিকবৃন্দ, সুবিধাভোগী ও  সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ,আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের পঞ্চম পর্বের দ্বিতীয় ধাপে বীরগঞ্জ উপজেলায় ৮ শত ৯৮টি গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে বাড়ি হস্তান্তরের পাশাপাশি ২৬ জেলার সব উপজেলাসহ আরও ৭০টি উপজেলাকে ভূমি ও গৃহহীন মানুষ মুক্ত ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা।

শেরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৫ প্রার্থীর কারচুপির অভিযোগ

মোঃ নজরুল ইসলাম জাকি
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
শেরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৫ প্রার্থীর কারচুপির অভিযোগ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কারচুপি, প্রাপ্ত ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করাসহ জাল ভোট দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে আটটায় শেরপুর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন একজন চেয়ারম্যান ও চারজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন জিহাদী।

গতকাল রাত সাড়ে আটটায় শহরের একটি রেস্তোরাঁয় ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন শেরপুর উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম এ হান্নান (জোড়া ফুল)। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত পরাজিত ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিধান ঘোষ (টিয়া পাখি), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফাতেমা খাতুন ময়না (কলস), মর্জিনা খাতুন (ফুটবল) ও ফিরোজা খাতুন (প্রজাপতি)।

 

সংবাদ সম্মেলনে এম এ হান্নান বলেন, নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ইন্ধনে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা পক্ষপাতিত্ব করে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘোষিত ফলাফলের সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের ঘোষণা করা ফলাফলের মিল নেই। অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সামনেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। ফলাফল ঘোষণা করার আগে লিখিত অভিযোগ করা হলেও একতরফাভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী শিখা খাতুনের (হাঁস) পক্ষে ভোট গণনার ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।

ওই সংবাদ সম্মেলন পরাজিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ফিরোজা খাতুন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ভোট গণনা শেষে উপজেলার “পানিসারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” কেন্দ্রে আমার প্রজাপতি প্রতীকে ১৪৪টি ও হাঁস মার্কায় ২৫৩টি ভোট পড়েছে বলে ঘোষণা করা হয় । কিন্তু উপজেলায় এসে আমার ভোট দেখানো হয়েছে ৬৭টি আর হাঁস মার্কার ভোট ৫১৩টি। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে আমি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

 

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন বিধান কুমার ঘোষ। নির্বাচনে তাঁর প্রতীক ছিল টিয়া পাখি। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তাঁকে যে নমুনা প্রতীক দেওয়া হয়েছে, ব্যালটের সঙ্গে তার মিল নেই। তাই ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়েছেন। আমি মৌখিকভাবে এ বিষয়ে অভিযোগ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে পরাজিত এসব প্রার্থী এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবি করেন। পাশাপাশি এ জন্য তাঁরা আদালতে যাবেন বলেও ঘোষণা দেন।

 

নির্বাচনে কারচুপি, ফলাফল পরিবর্তনসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শেরপুরের ইউএনও সুমন জিহাদী জানান, ‘এই নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে কোনো প্রার্থী আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। নির্বাচনের দিন ৫ জুন রাত ৮টায় “প্রজাপতি” প্রতীকের একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আমার মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমি তৎক্ষণিক সেটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছি।’

বীরগঞ্জে গরমে তালের শাঁস বিক্রির ধুম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ জুন, ২০২৪, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
বীরগঞ্জে গরমে তালের শাঁস বিক্রির ধুম

প্রচণ্ড গরমে উপজেলা জুড়ে কদর বেড়েছে তালের শাঁসের। একটু স্বস্তি পেতে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বিক্রি হওয়া রসালো এই ফলের স্বাদ নিচ্ছেন অনেকে। কচি তালের শাঁস ও পাকা তাল বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশেই জনপ্রিয়। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ফলে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। এর বেশিরভাগ অংশ জলীয় হওয়ায় এটা খেলে দ্রুত শরীরে পানিশূন্যতা দূর হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বীরগঞ্জ পৌরসভার মহাসড়কের পাশে ও বাজারগুলোতে তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষের পছন্দের খাবার হিসেবে সমাদৃত তালের শাঁস। মানুষের চাহিদা থাকায় পৌরসভা জুড়ে ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে এই ফল।

ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পরিবারের সবার জন্য তালের শাঁস কিনেছিলেন বীরগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, ‘বীরগঞ্জে ফরমালিন বা কেমিক্যাল ছাড়া কোনও ফল পাওয়া মুশকিল। সেখানে তালের শাঁস সর্বোৎকৃষ্ট। কোনও ধরনের ভেজাল নেই। তবে তালের শাঁস সুপারশপে বিক্রি হয় না, এটা কেবল ফুটপাত বা গ্রামের বাজারগুলোতে পাওয়া যায়। ছোট শাঁস অনুযায়ী দাম কিছুটা বেশি হলেও এ নিয়ে কিছু বলার নেই। বিক্রেতারা কষ্ট করে কেটে দেয়। লাভ না হলে তারা চলবে কীভাবে।’

আরেক ক্রেতা ও উত্তরের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মাহাবুর রহমান আংগুর বলেন, ‘গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি তালের শাঁস অনেক উপকারী। এটা ডায়েটের জন্য বেশ কার্যকর। এছাড়া শুষ্ক ত্বক ও চুল পড়া বন্ধ করে। লিভার, কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তশূন্যতা এগুলোর জন্যেও উপকারী। এটা খেতেও সুস্বাদু। এজন্য নিজে খেলাম পরিবারের সদস্যদের জন্যেও নিলাম।’

তালের শাঁসের খুচরা বিক্রেতা জয়নাল, গত দশ বছর ধরে গরম এলেই তিনি তালের শাঁস বিক্রি করেন। আগে এলাকায় বিক্রি করতেন, এখন পৌসভার মহাসড়ক ও বাজারগুলোতে বিক্রি করেন। বেচাকেনাও ভালো। দৈনিক সাত-আটশ’ টাকা গড়ে লাভ থাকে। গরম যতো বাড়ে তালের শাঁসের চাহিদাও বাড়ে।

"> ">
বীরগঞ্জে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন শেরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৫ প্রার্থীর কারচুপির অভিযোগ বীরগঞ্জে গরমে তালের শাঁস বিক্রির ধুম বীরগঞ্জে ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও জনসচেতনতামূলক সভা বীরগঞ্জে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী বাজেটের প্রভাব নেই নিত্যপণ্যের বাজারে অতি উচ্চাভিলাষী বাজেট, বাস্তবসম্মতও নয় : সিপিডি বীরগঞ্জে জাহাঙ্গীর এর দোকানে হরেক স্বাদের চা বীরগঞ্জে ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা বীরগঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ অভিযান বীরগঞ্জে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা ৬ দফা : অর্থনৈতিক মুক্তি কি মিলেছে? বিজেপির থেকে বড় সুবিধা পেলেন শাহরুখ! ৬ দফা দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ভারতে বিরোধী দলনেতার পদে রাহুল গান্ধী? শনিবার বাজেট নিয়ে বিরোধীদের জবাব দেবে আ.লীগ ‘বাজেট সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আরও সুদৃঢ় করবে’ মাসের প্রথম দিনই বেতন-ভাতা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাজেটের দিনে খেলাপি ঋণের রেকর্ড ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট, কী পাচ্ছে জনগণ একাধিক গাড়ি থাকলেই দিতে হবে পরিবেশ সারচার্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিলেন আবু হুসাইন বিপু কাহারোল বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত বীরগঞ্জে নিজপাড়া ইউনিয়ন পুষ্টি কমিটি গঠন বিষয়ক সভা বীরগঞ্জে ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা শ্বশুরবাড়ি যেতে না চাওয়ায় মেয়েকে শিকল বেঁধে মা-বাবার নির্যাতন শত ধাপ এগিয়ে থাকা তাইপের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াকু হার টাকার জন্য শাশুড়িকে জবাই করে হত্যা, আদালতে জামাইয়ের স্বীকারোক্তি এমপি আনার হত্যা : শিলাস্তির দায় স্বীকার